Kalpapuri School of Arts & Crafts

কল্পপুরী স্কুল অব আর্টস এন্ড ক্রাফটস

সন্তরণ আর্ট অরগানাইজেশন এর কল্পপুরী (শিশু মনোবিকাশে শিল্প) প্রোগ্রাম এর অধীনে পরিচালিত একটি সাংস্কৃতিক শিক্ষা কার্যক্রম। সাংস্কৃতিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে শিশু শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সৃজনশীল কর্মমুখী আত্মনির্ভরশীল তরুণ প্রজন্ম তৈরি করা এই সাংস্কৃতিক শিক্ষা কার্যক্রমের প্রধান লক্ষ।

১লা জানুয়ারী ২০২০ সাল থেকে কল্পপুরী স্কুল অব আর্টস্ এন্ড ক্রাফটস এর পাঁঁচ বছর মেয়াদি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলায়।২০১৯-২০২০ শিক্ষা বর্ষের প্রথম ব্যাচের শ্রেণী কার্যক্রম শুরু হয় কল্পপুরী স্কুল অব আর্টস্ এন্ড ক্রাফটস এর স্থায়ী  ক্যাম্পাস ‘সৃজন প্রাঙ্গন’ এবং অস্থায়ী ক্যাম্পাস ঝিলিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এর কার্যলয়ে। কল্পপুরী স্কুল অব আর্টস্ এন্ড ক্রাফটস্ প্রাথমিক ভাবে দৃশ্যকলা ও উপস্থাপনকলার তিনটি বিভাগ যথাক্রমে দৃশ্যকলা, সংগীত কলা, নৃত্য কলা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বিভাগসমুহ যথাক্রমে একজন অধ্যক্ষ, বিভাগীয় উপদেষ্ঠা, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক এবং শিক্ষক সহকারী দ্বারা পরিচালিত। সর্বনিন্ম ৬ বছর বয়সী যে কোন শিক্ষার্থী নির্ধারিত ফরম পুরন এবং ফী প্রদান করে কল্পপুরী স্কুল অব আর্টস্ এন্ড ক্রাফটস এ ভর্তি হতে পারে। ভর্তিকৃত প্রত্যেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সকল বিভগের সকল বিষয়ে পাঁচটি শিক্ষাবর্ষে তার শিক্ষাক্রম সম্পন্ন করবে। কল্পপুরী স্কুল অব আর্টস্ এন্ড ক্রাফটসের পাঁঁচটি শিক্ষাবর্ষ যথাক্রমে পাঁঁচটি নামে বিভক্ত আনন্দলোক, কল্পলোক, স্বপ্নলোক, বিশ্বলোক, ত্রিলোক, সপ্তাহের নির্ধারিত দিনে, নির্ধারিত সময়ে আলাদা ভাবে প্রত্যেকটি বিভাগের শ্রেণী কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে নির্ধারিত পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করা এই সাংস্কৃতিক শিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ন দিক। প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষ যথাক্রমে ৫২ সপ্তাহে বিভক্ত এর মধ্যে প্রথম ৫০ সপ্তাহ শ্রেণী কার্যক্রম এবং শেষের ২ সপ্তাহ কল্পপুরী উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থী তার শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। পাঁঁচ বছর মেয়াদি শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্নকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সমাবর্তনের মধ্য দিয়ে সনদ প্রদান করা হবে। কল্পপুরী স্কুল অব আর্টস্ এন্ড ক্রাফটস এর শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের বিষয় গুলো হলোÑ

দৃশ্যকলা বিভাগ:  অঙ্কণ শিল্প, নকশা শিল্প, বুনন শিল্প, ভাস্কর্য শিল্প, বহুমাত্রিক শিল্প

সংগীত কলা বিভাগ: ধ্রæপদী সংগীত, লোক সংগীত, রবীন্দ্র সংগীত, নজরুর সংগীত, বহুমাত্রিক সংগীত।

নৃত্য কলা বিভাগ: ধ্রæপদী নৃত্য , লোক নৃত্য, কোরিওগ্রাফী, নৃত্যাভিনয়, বহুমাত্রিক নৃত্য

প্রত্যেকটা বিভাগ একাধিক বিষয় এবং পাঠ্যসূচী দ্বারা সাজানো। যা শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্তি¡ক বিকাশের সাথে সাথে ভবিষ্যতের কর্মমুখী সৃজনশীলতাকে কে প্রাধান্য দিয়ে ধারাবাহীকভাবে তৈরী করা। তাছাড়া এই শিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেশী-বিদেশী শিল্পীরা ‘কল্পলোকের চিত্র’ কর্মশালার মধ্য দিয়ে দৃশ্যকলা এবং ‘আনন্দধারা’এর মধ্যদিয়ে উপস্থ্পনকলায় শিল্প শিক্ষার্থীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে।

সনাতনী শিক্ষা পদ্ধতির বিপরীতে উন্মুক্ত পরিসরে সৃজনশীল শ্রেণি কার্যক্রমকে প্রাধান্য দিয়ে  শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহনে উৎসাহিত করতে কল্পপুরী স্কুল অব আর্টস্ এন্ড ক্রাফটস বদ্ধ পরিকর।

কল্পপুরী প্রোগ্রামের লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য:

১.      শিশু/ শিক্ষার্থীদের  মনোবিকাশে শিল্প ও সাংস্কৃতিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে শিশুশিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে উচ্চতর শিক্ষা ব্যবস্থা পর্যন্ত  সৃজনশীলতার ধারাবাহিকতাকে বজায় রাখা।

২.      শিশু/ শিক্ষার্থীদের  মনোজগতকে সঠিকভাবে মূল্যায়নে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে শিশু বান্ধব পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় জনসাধারন, জন প্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন সহ সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা।

৩.      শিশু/ শিক্ষার্থীদের  শিল্প ও সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রকে নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ না রেখে প্রকৃতি নির্ভর খোলা প্রাঙ্গণের উপর গুরুত্ব প্রদান করা এবং শিশুদের শিল্প ও সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে লোক ও প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহারকে উৎসাহিত করা। শিল্পের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার সচেতনতা তৈরি করা।

৪.      দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর শিশুদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে শিল্প ও সাংস্কৃতিক বিষয় কে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা। শিশুদের মধ্য দিয়ে তাদের অভিভাবকদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরিতে শিল্পবোধকে কাজে লাগানো।

৫.      দেশীয় সম্পদ ব্যবহারে তরুণ প্রজন্মকে আগ্রহী করে তোলার ক্ষেত্রে সৃজনশীল কর্মমুখী শিক্ষাকে কাজে লাগানো।

৬.      দেশের ঐতিহ্যবাহী সৃজনশীল করণ কৌশলকে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে মিলিয়ে সৃষ্ট নতুন কর্মমুখী সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা।

৭.      নিজস্ব শিল্প ও সংস্কৃতি কে ভালবাসার সাথে সাথে অন্য সংস্কৃতিকে ও সম্মান প্রদর্শন করা।

৮.      শিল্প ও সংস্কৃতি নির্ভর শিক্ষার মধ্য দিয়ে একটি মানবিক গুনাবলীসম্পনন, সংবেদনশীল, পরমতসহিঞ্চু, নান্দনিকবোধ সম্পন্ন নতুন প্রজন্ম তৈরী করা।

৯.      সৃজনশীল কর্মমুখী শিক্ষাকে উপজীব্য করে কর্মমুখী আত্মনির্ভরশীল তরুণ প্রজন্ম তৈরি করা।